Showing posts with label নভেম্বর ২০১০. Show all posts
Showing posts with label নভেম্বর ২০১০. Show all posts

Saturday, August 31, 2019

স্মার্টনেসের সংজ্ঞা

স্মার্টনেসের সংজ্ঞা ( আমার একান্ত চিন্তা-ভাবনা। কারো সাথে নাও মিলতে পারে)


স্মার্ট! চারিদিকে স্মার্টনেসের ছড়াছড়ি। জীবনে কোনোদিন নিজেকে প্রশ্ন করেছেন স্মার্টনেস আসলে কি ?

“ ওই মেয়ে গিড়ার উপর সালোয়ার পরেছে, আমি হাটুর উপর জিন্স পড়বো” – না! এটা স্মার্টনেস নয়। এটাকে বলে ন্যুডনেস। আপনি যেটাকে স্মার্টনেস বলে ভাবছেন তাহলো পরসংস্কৃতিতে নিমজ্জিত অস্থিরতায় গ্রাসমান মানষিকতা। সহজ কথায়, আপনি একটা ছেবলা।

“ ঐ ছেলেটা ৪মিনিটে সুডোকু মিলিয়েছে, আমি ২মিনিটে মিলাবো, যেভাবেই হোক”- হ্যা! এটা হচ্ছে স্মার্টনেস। যদি আপনি ২ মিনিটে পারেন, তখন আপনি বলতে পারেন “ ইয়া ! আই এম স্মার্টার দ্যান ইউ”।

স্মার্টনেস কাপড়-চোপড় দিয়ে হয়না। স্মার্টনেস হলো আপনার ব্রেইনকে আপনি কতোটা শার্প করেছেন। আপনি আপনার প্রতিদ্বন্দীর তুলনায় কতোটা দ্রুত চিন্তা-ভাবনা করতে পারেন। বাংলাদেশে পড়াশুনা করা মানুষের অভাব থাকতে পারে তবে সংক্ষিপ্ত কাপড়কে স্মার্টনেস বলা পাবলিকের অভাব নেই। এর প্রমান চান? অভিজাত এলাকা বাদ দিলাম, বেইলীস্টার মার্কেটের সিড়িতে দাঁড়িয়ে শুধু সামনে কে.এফ.সি’র দিকে একবার আর পিছনে মার্কেটের ভেতরে একবার তাকান। আপনার কি মনে হয়? এরা সবাই বাংলা সিনেমা’র কোটিপতির একমাত্র “ ড্যাডি ড্যাডি” বলা কন্যা? মোটেও না! কিন্তু তাদের বেশ-ভূষা সে রকমই। কেনো? অনেকে বলবেন “ যুগের হাওয়া”। ভুল ! মোটেও যুগের হাওয়া নয় !

ধরুন আপনি এখন পরীক্ষার হলে। ভালো পরীক্ষা দেবার জন্য আপনি কি করেন? বাসা থেকে ভালোমতো পড়ে আসেন, কিন্তু যখন পরীক্ষায় কিছুতেই পড়া মনে আসেনা, তখন? সামনে পিছে দেখে লিখেন, তথা অনুকরন করেন। কেনো? যারা আপনার থেকে পড়াশুনায় “ ভালো অবস্থানে” আছে, তাদের সমপর্যায়ে যাবার জন্য।

উদাহরণটা দিলাম এই জন্য যে, ঐ মেয়েগুলো নিজেকে স্মার্ট দেখাবার জন্য কম বরং আর্থিকভাবে নিজেকে “ভালো অবস্থানে”র সমপর্যায়ে আনবার জন্য এই অনুকরন ঘটিয়ে থাকে।

আজকাল ইভ-টিজিং প্রবল একটা পর্যায়ে এসে পরেছে। এই নিয়ে একটা হৃদয় নিংড়ানো গল্প লিখেছিলাম (!!!)। তবে সেই গল্পে একটা জিনিস ইচ্ছে করেই আমি প্রকাশ করিনি। বলা যায়, বানিজ্যিক চিন্তা-ভাবনায়! গল্পটাকে উপযুক্ত সময়ে পাঠক সমাজে সমাদৃত করবার উদ্দেশ্যে হয়ত তখন এই কথাগুলো বলিনি যা এখন বলবো।

মণ্ডা-মিঠাই এর দোকানে বাইরে একজন লোক সারাটা দিন একটা কাজ করতেই থাকে, আর তা হলো মিঠাই এর উপর থেকে মাছি তাড়ানো। বেচারা যতোই মাছি তাড়াক, মাছি আসবেই! কেনো ? কারণ , মিঠা থাকলে মাছি আসবেই, এটাই জগতের জাগতিক সত্য!

যৌনতাকে যতোই খারাপ বলা হোক আর যতোই লুকিয়ে রাখা হোক, জীবনের সবচেয়ে বড় একটা উপাদান এটি। একে উপেক্ষা কিংবা অস্বীকার করবার মতো কেউ নেই। আজকে একটা ভীট ব্যবহারকারী মেয়ে যখন ক্লীন চকচকে হাটুর কাছে জিন্স আর সংক্ষিপ্ত, আটোসাটো কাপড় গায়ে দিয়ে একটি ছেলের পাশে হেটে যাবে, একবারের জন্য হলেও তার চোখ ঐ মেয়ের দিকে যাবেই, সে যতো বড় পীর-পয়গম্বরই হোক না কেনো! দ্বিতীয়বার তাকানোর উপর নির্ভর করছে ছেলেটির চারিত্রিক বৈশিষ্টের কথা। মিষ্টির উদাহরনটার কথা মনে আছে তো? মাছি কিন্তু যতোই তাড়াক, আবার ফিরে আসবে। এই মেয়েটার দিকে রাস্তায় ১০০ পুরুষের মধ্যে ৯৯টা পুরুষই তাকাবে। তাদের মধ্যে ৫০ জন লোক যদি সাদা মনের মানুষও হয়, তারা দ্বিতীয়বার তাকাবেন না। কিন্তু বাকি ৪৯জন? ৪৯জনের মধ্যে ৪০ জন তো চোখ দিয়েই বলতকার করে ফেলবে। বাকি যে ৯ জন? তারাই তো ইভটিজার! এখন আপনি বলেন তো! বোরকার দরকার নেই, মেয়েটা যদি  সাধারণ ঢিলেঢালা সালোয়ার কামিজ, সাথে সঠিক অবস্থানে ওড়না নিয়ে ঘর থেকে বের হতো, একই অবস্থা কি পরিলক্ষিত হতো? “ একজন দেখাতে পারবে আর আপনি দেখতে পারবেন না ” , এটা আমি মেনে নিতে পারছিনা, আমি দুঃখিত!

লেখাটা বড় হয়ে যাচ্ছে, শেষ করে দেই।  চিন্তা-ভাবনাকে স্মার্ট করুন। মহাত্মা গান্ধী নেংটি পড়তেন, এক প্রস্থ কাপড় গায়ে দিতেন। তিনি কি স্মার্ট ছিলেন না? আপনার, আমার থেকে হাজার গুন স্মার্ট ছিলেন। নারীর স্বাধিকার আন্দোলনের পথিকৃত যিনি, বেগম রোকেয়া। ততকালীন আমলে তার চিন্তা-ভাবনা আজকের দিনের শত শত লাক্স সুপারস্টারদের চিন্তা-ভাবনার সমষ্টির থেকে কয়েক হাজার গুন উন্নত ছিলো। উনি কি স্মার্ট ছিলেন না তাহলে? তিনি কি তা জাহির করবার জন্য শর্ট জিন্স আর স্লীভলেস টপস পরতেন? নিজেকে প্রশ্ন করুন, কোথায় যাচ্ছি আমরা। নিজের ঝুড়ি খালি করে অপরের স্বত্বাকে কিনে নিজেকেই অন্তসার শুন্য করছি।