পাঠকদের কাছে ব্যাবসায়ীক ভাবে সাফল্য অর্জনের লক্ষ্যে সবাইকে জানাই “ হ্যাপি নিউ ইয়ার “। এইবার আমি বরাবরের মতো আমার ফাটা ঢোল পিটানো শুরু করি। এই লিখাটা যখন লিখছি তখন ৩১শে ডিসেম্বার, রাত ৯টা বেজে ৫৫মিনিট। ককটেলের শব্দে বাসায় থাকা দায়! আমি জানিনা কেনো, এই দিনটা আমার মন খুব বিরক্ত থাকে। এতো বিরক্ত যে কাছের মানুষগুলাকেও খুবি অসহ্য লাগে। এখন লাগছে, বাসায় দুলাভাই নিচে ডাকতেছে, যাইনাই বলে ফোন দিয়ে কয়েকটা কথা শুনায় দিলো, বুঝাইলো সে মন খারাপ করেছেন। ভাইরে, সবারই তো একটা নিজস্ব পছন্দ আছে! বেইলীরোডে গিয়ে তিন-চতুর্থাংশ নগ্ন মেয়ে দেখার কোনোই ইচ্ছা আমার নেই।
মডেল টেস্ট দিতে দিতে জীবনটা আমের ছেবলা হয়া যাইতেছে। যেই আমি কোনোদিন সপ্তাহে ৬ ঘন্টা পড়াশুনা করেছি বলে মনে পরেনা, সেই আমি এখন দিনে ৮ঘন্টা পড়ি! নিজেরই অবাক লাগে ! তো আজকে পদার্থ বিজ্ঞান এর পরীক্ষা দিতে গেলাম বেইলীরোডে এক কোচিং সেন্টারে, তখনও এত্তো কপোত-কপোতীর আগমন ঘটেনাই। সন্ধ্যা ৭টায় পরীক্ষা শেষ করে যখন বের হলাম, শুধু নিঃশ্বাস ফেলা ছাড়া কিছুই করার নেই। এখন আর সেই দিন নেই যে উন্নত বক্ষা দেখে আনন্দ নিবো! এখন এইসব নিচু মানষিকতা দেখে মারাত্মক কষ্ট লাগে। ইভটিজিং নিয়ে দুশ্চিন্তা কে না করেছে! এই কয়দিন আগেও তো, শত শত মানব-বন্ধন হলো। কেউ যদি রিক্সায় হুড উঠিয়ে নিজের দৈহিক সম্পত্তি প্রিয় কাউকে বিলিয়ে দেয়, আর তা যদি পাবলিক প্লেসে অবস্থানকারি মানুষ দেখে টিটকারি মারে, তাও কি ইভ-টিজিং? যেই মেয়েটা শীতকালেও হাটুর সামান্য নীচে খুব কষ্ট করে জিন্স কিংবা নতুন ফ্যাশন হিসেবে স্থিতিস্থাপকতা সম্পন্ন কোনো বস্ত্র পরিধান করে, উপরে জ্যামিতিক কার্ভ দেখায়, আর শীতবস্ত্র হিসেবে আমার গোসলের পর শরীর মোছার গামছার থেকেও পাতলা একটা চাদর গায়ে দিয়ে আসে, তাকেও কি ইভ-টিজিং ল্য এর অধিকারীনি করা উচিত?
এই লিখাটার কোনোই উদ্দেশ্য নেই, কোনোই মা-বাপ নেই। ঠিক যেমন ওই মেয়ে-ছেলে গুলার নেই। বাপ-মা থাকলে কিভাবে এই তিন-চতুর্থাংশ খালি বদন নিয়ে বাইরে আসে? বাপ-মা থাকলেও তারা কেয়ার-টেকার ছাড়া কিছুইনা। আজকে নিউ ইয়ার উপলক্ষ্যে একটা ডিসিশান নিলাম, “ বিদেশে গিয়ে হাড়ি-পাতিল মাজবো, কিন্তু এই বালের দেশে থাকবোনা। এত্তো মা মা করে কি হবে? একটা বিজ্ঞাপন দেয় বিভিন্ন চ্যানেলে। যেই মায়ের সন্তানেরা শরীর বিলিয়ে দেয় ২টা চিকেন ফ্রাই আর কোক খাবার জন্য, সেই মা’এর নিকুচি করি আমি।“
No comments:
Post a Comment